বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জানিয়েছেন যে, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি প্রদান করছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জনকে এই ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদ রয়েছে এবং সেই হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে।
মডেল মসজিদ ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ: সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৩৪২টির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ সারা দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্মীয় কল্যাণ ও ওয়াকফ সম্পত্তি:
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ: ট্রাস্টের অধীনে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ষষ্ঠ পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার: গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা: নারী ও তরুণদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে খতিব, ইমাম ও শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এছাড়া, মন্ত্রী জানান যে ২০২৬ সালে সৌদি আরবে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ হাজার ৬০০ জন কম। সরকারের এই উদ্যোগগুলো ধর্মীয় শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন