মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টির ফলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ইরান বন্ধ ঘোষণা করায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, উল্টো চিত্র দেখা গেছে স্বর্ণের বাজারে, যেখানে এই মূল্যবান ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, যার ফলেই মূলত স্বর্ণের দাম কমেছে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৫৯ ডলারে নেমে আসে। একইসঙ্গে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। শুধুমাত্র স্বর্ণ নয়, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। যদি হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। যদিও স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম কমছে, তবে অর্থনীতিতে ধীরগতি ও প্রবৃদ্ধি হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আবার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার খবরের দিকে নজর রাখছেন বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা, যার ওপর ভিত্তি করেই আগামী কয়েক দিন আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি নির্ধারিত হবে
মন্তব্য করুন