হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়ার পর টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৭ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০.৮০ ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৪ সেন্ট বা ১.২ শতাংশ কমে ৬৭.৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে তেলের এই দরপতন গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দাম কমার মূল কারণ। এছাড়া, ওপেক+ দেশগুলো আগামী রবিবারের বৈঠকে আগস্ট থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে, যা বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইউবিএস তেলের দামের পূর্বাভাস কমিয়ে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক থাকার কারণে তারা সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য ব্রেন্ট তেলের দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যারেলপ্রতি ২৫ ডলার এবং ডিসেম্বর প্রান্তিকে ১০ ডলার দাম কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে ইউবিএস এও সতর্ক করেছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। একদিকে আলোচনায় আশার আলো, অন্যদিকে বাজারের অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের বর্তমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
মন্তব্য করুন