২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার মহারণ পরিচালনার জন্য ফিফা যে পাঁচ সদস্যের রেফারি প্যানেল ঘোষণা করেছে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ফাকুন্দো তেলো। শুধু তিনিই নন, সহকারী রেফারি থেকে শুরু করে চতুর্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত পাঁচজনের পুরো দলটাই এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে।
সমর্থকদের বড় একটি অংশ এই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে টিকে রয়েছে এবং তারা ফাইনালে উঠলে ফ্রান্স বা মরক্কোর যেকোনো একটি দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ দলের ম্যাচে কেন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের রেফারিদের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্টের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ফিফা যদিও যুক্তি দিচ্ছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই সমন্বয় ও বোঝাপড়ার স্বার্থে একটি দেশের রেফারিদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ দল গঠন করে আসছে এবং কোনো রেফারিকেই নিজ দেশের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয় না, তবুও সমর্থকদের মনে সন্দেহ পুরোপুরি কাটছে না।
নিয়োগের এই বিতর্কের পাশাপাশি রেফারি ফাকুন্দো তেলোর অতীত ইতিহাসও তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম কঠোর রেফারি হিসেবে খ্যাত তেলো ২০২২ সালে বোকা জুনিয়র্স ও রেসিং ক্লাবের ম্যাচে রেকর্ড ১০টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। এছাড়া কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো বনাম পর্তুগালের ম্যাচে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ওয়ালিদ চেদ্দিরাকে লাল কার্ড দেখানো নিয়েও সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
এখন মরক্কোর ম্যাচেই পুনরায় তার নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের কারণে এবারের বিশ্বকাপে এমনিতেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তার ওপর তেলোর মতো কঠোর ও বিতর্কিত রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ায় ম্যাচটি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বোস্টনের স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের এই ম্যাচে রেফারি তার দায়িত্ব কতটুকু নিরপেক্ষভাবে পালন করতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন