স্পেনের বিপক্ষে তীব্র লড়াই ও অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দিয়ে গেছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফাইনালে স্পেনের ২০টি শটের মধ্যে ১১টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে প্রায় একাই টিকিয়ে রেখেছিলেন অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা। তবে ফাইনালের প্রথমার্ধে দলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল এবং স্পেনের বক্সের সামনে আক্রমণে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর জানা গেছে, বিরতির ঠিক ওই মুহূর্তে সতীর্থদের পারফরম্যান্সে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছিলেন মার্তিনেজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে গোলরক্ষক মার্তিনেজকে বেশ ক্ষোভের সুরে বলতে শোনা যায়, ‘কাপুরুষেরা পেছনের দিকে খেলে। সামনে এগিয়ে খেলো, হৃদয় দিয়ে খেলো। আমরা ওদের চেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত। মাত্র তিনটি পাস দিলেই আমরা লিও (মেসি)-কে খুঁজে পাব। চল, সামনে খেলি। জিততেই হবে।’ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডান প্রান্ত দিয়ে যেভাবে আক্রমণ সাজিয়ে সফল হয়েছিল আর্জেন্টিনা, ফাইনালেও সেই একই কৌশল প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিও বিরতির সময় সতীর্থদের সাহস জুগিয়ে বলেন, ‘চলো, ব্যক্তিত্ব দেখাও। আমরা সবসময় তা দেখিয়েছি, এখন কেন পারব না? নিজের খেলাটা খেলো।’
তবে দলের এই মরিয়া চেষ্টার পরও খেলার চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের উদ্দেশ্যে একটি শটও নিতে ব্যর্থ হয় আলবিসেলেস্তেরা। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তরেসের করা একমাত্র গোলটিই ব্যবধান গড়ে দেয় এবং ট্রফি চলে যায় স্পেনের ঘরে। ম্যাচ শেষে গভীর হতাশা প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে মেসি লিখেছেন এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে। অন্যদিকে, ফাইনালে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বিশ্বমানের গোলকিপিং উপহার দেওয়ায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দলে ভেড়াতে ইতোমধ্যে ইতালিয়ান ক্লাব ‘জুভেন্টাস’ তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন