ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম উজ্জ্বল করে প্রথমবারের মতো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মিশর। শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার পরপরই কায়রো থেকে গিজা, আলেকজান্রিয়া থেকে আপার ইজিপ্ট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বাঁধভাঙা আনন্দ। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে মিশরের পতাকা উড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন, আর ‘মিশর, মিশর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি জনপদ। এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গিজার বিখ্যাত পিরামিডকেও লাল আলোয় আলোকিত করা হয়।
মিশরের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবুলি জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের আবেগঘন বক্তব্য। ঐতিহাসিক এই জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি। বেইন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জয় শুধু মিশরের নয়, বরং ফিলিস্তিনের জনগণেরও। কঠিন মানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও গাজার ফিলিস্তিনিরা যেভাবে মিশর দলকে সমর্থন ও উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন, তার প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মরক্কোর পর এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল মিশর। এখন তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ সরাসরি আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া। সমর্থক মোহাম্মদ এল-আলফিসহ অনেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এবার আমাদের অপেক্ষা মেসির আর্জেন্টিনার জন্য।’ সমর্থকরা বিশ্বাস করছেন, দলগত ঐক্য আর জেদের জোরে তারা পরবর্তী ধাপও অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
মিশরের এই জয় আরব বিশ্বের ফুটবলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একদিকে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ, অন্যদিকে মানবতার প্রতি সংহতি প্রকাশ সব মিলিয়ে মিশরের এই যাত্রা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরবর্তী রোমাঞ্চকর লড়াইটির দিকে।
মন্তব্য করুন