মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করল মিসর। সম্প্রতি মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় কায়রো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ‘চরম লঙ্ঘন’ এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিসর জানায়, আরব ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা বিপন্ন করেএমন যেকোনো পদক্ষেপকে মিসর কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। কায়রো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কেবল ওই দেশগুলোর নিরাপত্তা নয়, বরং মিসরের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে মিসরীয় প্রশাসন।
কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে মিসর তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে বারবার চালানো এই নিন্দনীয় হামলাগুলোর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের এমন আক্রমণাত্মক আচরণ গোটা অঞ্চলকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে এই নতুন দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিসরের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় কায়রো তাদের মিত্রদের পাশে থেকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন