কক্সবাজারে টানা ভারি বর্ষণ কেড়ে নিয়েছে ১১টি প্রাণ। প্রবল বৃষ্টির জেরে গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮ জন, কক্সবাজার শহরের একজন, পেকুয়ার একজন এবং দরিয়ানগরের একজন রয়েছেন। উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে, যেখানে একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম ও তাদের ৪ বছরের শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উখিয়ার ১১ ও ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও পাহাড়ধসে একই পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শহরের ১২নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা মারা যান। এর পাশাপাশি পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নে ৭ বছর বয়সী মো. মিনহাজ উদ্দিন এবং মঙ্গলবার দুপুরে দরিয়ানগরে পাহাড়ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং প্রতিকূল আবহাওয়া না কাটা পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢালে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করার কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই ঘটনাকে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার ভয়াবহ পরিণতি উল্লেখ করে এটিকে এক প্রকার ‘মানবসৃষ্ট হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। বর্তমানে জেলা সদর, রামু ও উখিয়া উপজেলাসহ পাহাড়ি এলাকার প্রায় তিন লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।
মন্তব্য করুন