টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবনে এখন ঘোর বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে উচ্ছেদ অভিযান, আদালতের নির্দেশনা এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অন্তত ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার এখনো চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড় ধসে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় চট্টগ্রামবাসীর মনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রামের রউফাবাদ মিয়া পাহাড়, চৌধুরী নগর পাহাড় এবং ষোলশহর রেলওয়ে পাহাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয়রা বিপদের কথা জেনেশুনেও অন্যত্র যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ঝুপড়ি ঘর ছাড়তে পারছেন না। রউফাবাদ মিয়া পাহাড়ের বাসিন্দা কোহিনূর আক্তার জানান, বৃষ্টির সময় পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা পানি নামতে দেখলে তিনি ঘুমাতে পারেন না, সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকেন। অন্যদিকে চৌধুরী নগরের সিএনজি চালক মোহাম্মদ হাবিব বলেন, আমরাও নিরাপদ জায়গায় যেতে চাই কিন্তু কম ভাড়ায় থাকার মতো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৭৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন পাহাড়ের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো ভূতাত্ত্বিকভাবেই অত্যন্ত ভঙ্গুর। অধ্যাপক আলক পাল বলেন, পাহাড় কাটার ফলে ঢালগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং বৃষ্টির পানি পাহাড় ধসের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। পাহাড় রক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন এবং বনায়ন জরুরি, নতুবা চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা অসম্ভব হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর চলতি বছরের ছয় মাসে পাহাড় কাটা রোধে ৫০টি অভিযান চালালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে স্থানীয়রা মনে করেন। নগর পরিকল্পনাবিদ দেলোয়ার মজুমদার স্পষ্টভাবে বলেছেন, আবাসন সমস্যা এবং স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়া প্রতি বর্ষায় উচ্ছেদ অভিযান কেবল একটি সাময়িক সমাধান মাত্র।
মন্তব্য করুন