|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে জীবনের শেষ সময়ে আর জন্মদিন পালন করতেন না ‘মিয়া ভাই’ ফারুক

নায়ক ফারুক,

যে কারণে জীবনের শেষ সময়ে আর জন্মদিন পালন করতেন না ‘মিয়া ভাই’ ফারুক

গ্রামীণ পটভূমির সিনেমায় যিনি ছিলেন অনন্য এক প্রতাপশালী অভিনেতা, একের পর এক দাপুটে অভিনয়ে যিনি জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের মন, সেই নন্দিত অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের জন্মবার্ষিকী আজ। সিনেমা অঙ্গনে যিনি সবার কাছে পরম পরিচিত ছিলেন ‘মিয়া ভাই’ হিসেবে।

তবে বেঁচে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে নিজের জন্মদিন পালন করতেন না এই কিংবদন্তি অভিনেতা। ১৯৭৫ সালের পর থেকে তিনি আর কখনো এই দিনটি আনন্দ বা উৎসবের সঙ্গে উদযাপন করেননি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত ও রাজনৈতিক অনুসারী ছিলেন ফারুক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর সেই নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে নিজের জন্মতারিখ অর্থাৎ ১৮ আগস্টকে আর কখনো আনন্দের দিন হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি তিনি।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট গাজীপুরে জন্ম নেওয়া আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ছিলেন বাবা আজগার হোসেন পাঠানের পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে সবার ছোট। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধের আগেই এইচ আকবর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘জলছবি’তে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে, যা মুক্তি পায় ১৯৭১ সালে। এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং পরের বছর ‘আলোর মিছিল’-এ অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটি তাকে এনে দেয় দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি ও তারকাখ্যাতি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—‘নয়নমনি’, ‘মাটির মায়া’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সারেং বৌ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘নদের চাঁদ’, ‘সখী তুমি কার’, ‘দোস্তী’, ‘লাল কাজল’, ‘ঝিনুক মালা’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘শিমুল পারুল’, ‘মিয়া ভাই’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জীবন সংসার’, ‘কোটি টাকার কাবিন’ ইত্যাদি। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ব্যবসায় সফলতার পর তিনি পুরোদস্তুর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘লাঠিয়াল’ সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৩ সালের ১৫ মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান বাংলা সিনেমার এই ‘মিয়া ভাই’।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের ছয় পদকের রোমাঞ্চকর ইতিহাস এবং শুট

1

পুতিনের বিলাসবহুল প্রাসাদের সুরক্ষায় থাকা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্

2

ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারল ব্রাজিল

3

বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন: ৪ দিন ধরে যোগা

4

আন্দোলন শুরুর দিনই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

5

ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে আর্জেন্টিনাকে সেরা মানছেন জাপা

6

বিশ্বব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হচ্ছেন আবদুর রহমান খান

7

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা

8

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নৃত্যকলাসহ ৪ বিষয়

9

আসামে বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ

10

স্কটল্যান্ডের কাছে হারলে ব্রাজিলের সমীকরণ

11

ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে রায়ান চেরকির চমক

12

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

13

রাজনীতির জন্য সব হারিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন জাহিদুল

14

ডেঙ্গু বাড়লে অতিরিক্ত চিকিৎসক দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

15

মার্ভেল স্টুডিওর ‘এক্স-মেন’ সিনেমার কাস্ট প্রকাশ: কে কোন চরি

16

হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি, ৫

17

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

18

মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন বিএনপি নেতা: এক লাখ টাকা জরিমান

19

গ্রাহকদের জন্য সুসংবাদ: টেকনো স্মার্টফোনের দাম কমল

20