গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পুরনো বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে রুমন (১৮) নামে এক মেধাবী কলেজছাত্র নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। রক্তাক্ত ও রোমহর্ষক এই হামলার ঘটনায় নিহতের আপন বড় ভাই রুহিত (২০) গুরুতর জখম হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গত রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের অন্তর্গত পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুন রুমন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন বলে তাঁর পরিবার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চোখের সামনে একজন উদীয়মান কলেজছাত্রের এমন অকাল ও নির্মম মৃত্যুতে পুরো পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রাম জুড়ে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছানা হাজির ছেলে বখাটে যুবক রাকিবের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে তীব্র বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। এই সীমানা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামীণ সড়কের ওপর উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও ওহীর সৃষ্টি হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষ ছানা হাজির ছেলে রাকিব তার কোমরে লুকিয়ে রাখা একটি ধারালো ছুরি বের করে অতর্কিতে রুহিতের শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত ও কোপাতে শুরু করে।
ঠিক ওই সময়ে বড় ভাই রুহিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে এবং তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে ছোট ভাই কলেজছাত্র রুমন তীব্র চিৎকার করে দৌড়ে এগিয়ে আসেন। কিন্তু ঘাতক রাকিব এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, সে কোনো কিছু না ভেবেই এগিয়ে আসা ছোট ভাই রুমনের বুকেও ধারালো ছুরি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। ছুরি রুমনের বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিলে তিনি মাটিতে অবচেতন হয়ে পড়ে যান। পরবর্তীতে দুই ভাইয়ের চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ঘাতক রাকিব ও তার সহযোগীরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এলাকা ছেড়ে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় সহোদর রুহিত ও রুমনকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত রুহিতকে হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
আজ সোমবার সকালে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর থেকেই মূল ঘাতক রাকিব পলাতক রয়েছে। তবে খুনের ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রাকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি বেগমকে পুলিশ হেফাজতে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। নিহত কলেজছাত্র রুমনের রক্তাক্ত লাশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাতক রাকিবকে প্রধান আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রস্তুতি চলছে।